ইতিহাস
একটি দেশ, একটি জাতিকে এগিয়ে নিতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে
হলে আগে মাকে (নারীকে) সুশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া জরুরি। বিষয়টি উপলব্ধি করে মেয়েরে উচ্চ শিক্ষার
পরিবেশ সৃষ্টির জন্য ভেড়ামারায় একটি মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠার উ্েযাগ গ্রহণ করা হয়।
মাধ্যমিক শিক্ষার পরবর্তী ধাপ হলো উচ্চ মাধ্যমিক স্তর। বিগত শতাব্দীর নব্বই’র দশকে ক্রমান্বয়ে
এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে াকে। এমতাবস্থায় মিরপুর ও দৌলতপুর উপজেলার
কিয়দংশ এবং ভেড়ামারা উপজেলার মাধ্যমিক উত্তীর্ণ সকল শির্ক্ষাী উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের লেখা পড়ার জন্য
পূর্বে প্রতিষ্ঠিত একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভেড়ামারা কলেজে প্রতিবছর ভর্তি সমস্যার সম্মুখিন
হচ্ছিল। এছাড়াও ভেড়ামারা কলেজে সহশিক্ষা ব্যবস্থা চালু াকায় সহশিক্ষার বিভিন্ন অসুবিধার কারণে
মেয়েদের লেখাপড়ার অনুকূল পরিবেশ বিঘœ সৃষ্টি হয়। তদসময়ে অত্র অঞ্চলে বিকল্প কোন মহিলা কলেজ না
থাকায় উদ্ভুত পরিস্থিতিতে অনেক মেয়ের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। আর্কি ও আনুসঙ্গিক সুযোগের
অভাবে নিজ এলাকার বাইরে দেশের অন্য কোন মহিলা কলেজে ভর্তি করা অনেক অভিভাবকের পক্ষে সম্ভব
হচ্ছিল না। এমনিভাবে অধিকাংশ মেয়েরে মাধ্যমিকের পর অনিচ্ছাসত্তে¡ও বাধ্য হয়ে বসতে হতো বিয়ের
পিঁড়িতে। এর ফলে সম্ভাবনাময়ী অনেক মেয়ের লেখা পড়া অকালেই বন্ধ হয়ে যেতো। এসমস্ত বিষয়
বিবেচনা করে ভেড়ামারায় একটি মহিলা কলেজ স্থাপনের লক্ষ্যে জনাব মোহাঃ আব্দুর রাজ্জাক রাজা
(প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ) এলাকার মানুষের ঐকান্তিক সহযোগিতা নিয়ে ক্ষেত্র সমীক্ষার আলোকে জনমত
গ্রহণের মাধ্যমে ইতিবাচক সাড়া পেয়ে ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১৭ অক্টোবর অপরাহ্ণে ভেড়ামারা পাবলিক
লাইব্রেরি হলরুমে একটি সাধারণ সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক মতার্শে বিশ্বাসী এবং শিক্ষানুরাগী
দূরদর্শী ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে সর্বসম্মতক্রমে ‘আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের
একটি শিক্ষিত জাতি দেব’ সম্রাট নেপোলিয়নের এই অমর বাণীকে ধারণ করে ‘ভেড়ামারা মহিলা কলেজ’
প্রতিষ্ঠিত হয়।
সরকারিকরণ: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাশে সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে সরকারি
কলেজবিহীন প্রতিটি উপজেলায় একটি কলেজ এবং একটি মাধ্যমিক ব্যিালয় সরকারিকরণের ঘোষণা
দিলে প্রতিশ্রæতির জোয়ারে ভেড়ামারা মহিলা কলেজের শিক্ষক/কর্মচারীদের মধ্যে পর্বতমান প্রত্যাশা
সৃষ্টি হয় এ প্রেক্ষিতে আবেদন নিবেদনের এক পর্যায়ে যুদ্ধাহত বীরমুক্তিযোদ্ধা জনাব মোঃ রশিদুল
আলম-এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রি. তারিখে
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন মূলে কলেজটি ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ হতে সরকারি হয়ে ‘ভেড়ামারা
সরকারি মহিলা কলেজ’ নামকরণের মধ্য দিয়ে নতুন করে যাত্রা শুরু করে।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ভেড়ামারা সরকারি মহিলা কলেজ দরিদ্র জনগোষ্ঠির মেয়েদের শিক্ষা সেবা নিশ্চিত করা-
সহ উচ্চ শিক্ষার একটি উৎকৃষ্ট কেন্দ্র হিসেবে ব্যাপক ভূমিকা রেখে চলেছে।